
জাহীদ রেজা নূর, ঢাকা
জাহীদ রেজা নূর, ঢাকা
সকল লেখা

বিদায় বিভুদা
বিভুদা এভাবে চলে যাবেন, সেটা আমরা কেউ ভাবতেও পারিনি। আজকের পত্রিকা পরিবার গত বৃহস্পতিবার থেকেই ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিল। সেদিন সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর আর ফেরেননি।

চির নতুনের দিল ডাক
রবীন্দ্রনাথই তো শিশুতীর্থ কবিতায় একদা লিখেছিলেন, ‘ভয় নেই ভাই, মানবকে মহান বলে জেনো!’ পরক্ষণেই বলেছেন, ‘পশুশক্তিই আদ্যাশক্তি পশুশক্তিই শাশ্বত!’ বলেছেন, ‘সাধুতা তলে তলে আত্মপ্রবঞ্চক!’

ভরা থাক স্মৃতিসুধায় বিদায়ের পাত্রখানি
আজ মঙ্গলবার, বেলা তিনটা কুড়ির দিকে একটা ফোন এল। কালের কণ্ঠের অলকানন্দার ফোন। ও বলল, ‘সন্জীদা খাতুনও চলে গেলেন!’ মেয়েটা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল। কিছু একটা বলে ওকে নিরস্ত করে হোয়াটসঅ্যাপে ‘হাসপাতাল ২৫’ নামের থ্রেডটির দিকে ভয়ে ভয়ে চোখ রাখি। হাসপাতালে তিনি কেমন আছেন, তা কাছের মানুষের জানানোর জন্য এই

দেশের হৃৎপিণ্ডে প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে গেল মেয়েটি
বাঁচল না মেয়েটা। ও কি মুক্তি পেল তাহলে? বেঁচে থাকলে কেমন একটা জীবন পেত সে? মরে গিয়ে বেঁচে যাওয়ার এই ট্র্যাজেডি নিয়ে কী লিখতেন শেক্সপিয়ার? হ্যামলেট, ম্যাকবেথ, কিং লিয়ারের পাশে কি আরেকটি নাটক লিখে রাখতেন তিনি?

একুশ মানে মাথা নত না করা
একুশ মানে মাথা নত না করা—শিক্ষাবিদ আবুল ফজলের বলা এই বাক্যটি এতটা প্রাসঙ্গিক হয়ে আর কবে দেখা দিয়েছে? নানা লোকের নানা মতবাদে দেশের ভাবনার ভারসাম্য যখন বিপদের সম্মুখীন, তখন একুশ আমাদের কোন অনুপ্রেরণা দেয়, সেটা নির্ধারণ করার দায়িত্বও এ সময়কার মানুষদের ওপর বর্তায়।

ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছিল বাংলায়
১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনটি ঘটনা ঘটেছিল। বসেছিল প্রাদেশিক পরিষদের সভা, ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট ঘোষণা করেছিলেন ১৪৪ ধারা, সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৪৪ ধারা ভাঙা না-ভাঙার ব্যাপারে বৈঠকে বসেছিল।

১৪৪ ধারার সামনে দেশ
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে বোঝানো হয়েছিল, ভাষা আন্দোলন স্থানীয় বাঙালির আন্দোলন নয়। এই আন্দোলনে ভারতের ইন্ধন আছে। আছে কমিউনিস্টদের হাত। ফলে লাল জুজুর ভয় দেখিয়ে জিন্নাহকে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা না করার পরামর্শই দিয়েছিল প্রাদেশিক মুসলিম লীগ।

জিন্নাহর ভাষণ, ছাত্রদের নো নো নো
বোন ফাতেমা জিন্নাহকে নিয়ে ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় এসে পৌঁছালেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। জনতা তাঁকে বরণ করে নিল। এরই মধ্যে ১৫ মার্চ প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে ২১ মার্চ ছিল রেসকোর্স ময়দানে তাঁর জনসভা। সেখানে নামল মানুষের ঢল। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতাকে একনজর দেখতে আসা অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন রাজপথে।

ভাষা আন্দোলনের অঙ্কুর
পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদের সভায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যে কথা বলেন, তা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি। এ দেশের সব ধর্মের মানুষ পাকিস্তানি বলে বিবেচিত হবে এবং ধর্মীয় প্রশ্নে কেউ সংখ্যালঘু হবে না, এ বার্তা ছিল জিন্নাহর ভাষণে।

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে এলোমেলো ভাবনা
১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা বিস্তারিতভাবে বলার আগে সেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী সময়টিতে রাষ্ট্রভাষা নিয়ে যে আলোচনাগুলো হচ্ছিল, তার একটি অবয়ব তুলে আনা দরকার। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম লেখক সম্প্রদায়ই প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সে সময় বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম নেতা...

পাকিস্তানের ভাষা বাস্তবতা
হিন্দি না উর্দু—জাতীয় ভাষা কোনটা হবে, এ নিয়ে বিতর্ক চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। হিন্দু নেতারা চাইছিলেন হিন্দি হোক ভারতের জাতীয় ভাষা, আর মুসলমান নেতারা চাইছিলেন জাতীয় ভাষা হোক উর্দু। ভারত আর পাকিস্তানে দেশটা বাঁটোয়ারা হয়ে যাওয়ার অনেক আগের কথা সেটা। বাংলা প্রসঙ্গটি তখন সেভাবে আসেনি...

বাংলা ভাষার পক্ষে-বিপক্ষে
আগেই বলা হয়েছে, বাঙালি মুসলমানকে মুঘল আমলেও দেশের প্রশাসনিক কাজে যুক্ত করা হয়নি। বাইরে থেকে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা এই অঞ্চলের হিন্দুদেরই দেশ শাসনে সঙ্গে নিয়েছিলেন। ফলে মুসলিম শাসকদের ইংরেজরা হটিয়ে দিলেও বাংলার গরিব মুসলমানদের তাতে কিছু আসে যায়নি।

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, সে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করলে প্রথমেই বলতে হবে, বাংলার রাজনীতিক, লেখক-বুদ্ধিজীবী কেউই বাংলাকে দেশটির একক রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি করেননি। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি বিশেষ ভৌগোলিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতার কারণে একক রাষ্ট্রভাষার দেশ হিসেবে পরিচিত হতে পারে না।

দ্বিজাতি তত্ত্বের অবসান
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেখানে তিনি যে অভিভাষণ দিয়েছিলেন, সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠালগ্নে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর এটাই ছিল নীতিনির্দেশক বিবৃতি। কী বলেছিলেন তিনি এই অভিভাষণে?

টনক নড়ল বাঙালি মুসলমানের
বাঙালি মুসলমানের একটি বড় সমস্যা হলো, সে তার দীর্ঘদিনের ইতিহাসে নিজেকে প্রবলভাবে বাঙালি বলে ঘোষণা করেনি। বাংলার অন্য আরেকটি বড় সম্প্রদায় ছিল হিন্দু সম্প্রদায়, তারাও বাঙালি মুসলমানকে শুধুই মুসলমান হিসেবে দেখতে চেয়েছে।

পিছিয়ে পড়া মুসলমান
এবার সরাসরি ভাষা প্রসঙ্গে আসা যাক। ব্রিটিশ আমলে কেন মুসলিমরা সরকারি চাকরিতে কিংবা বেসরকারি চাকরিতেও স্থান পাচ্ছিলেন না, তার কিছুটা বর্ণনা করা হয়েছে। ইংরেজরা একের পর এক যে সব চাকরির শর্ত দিচ্ছিল, তাতে মুসলমানদের পক্ষে চাকরির ময়দানে টিকে থাকা দুরূহ হয়ে উঠেছিল। এর একটা বড় কারণ ছিল ভাষা।
